মুখভর্তি দাড়ি রাখার সুবিধা অসুবিধা গুলো জানেন কি?

0 720

দাড়ি না রাখার ক্ষতি

 

দাড়ি না রাখার অসংখ্য ক্ষতি রয়েছে:

এক.

দাড়ি মুণ্ডানো বা ছোট করা মুশরিক, অগ্নিপূজক ও বিধর্মীদের অভ্যাস। আর মুসলমানদের জন্য বিধর্মীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হারাম। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য (বেশভূষা, আকার-আকৃতি) অবলম্বন করে, সে ওই জাতির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

 

দুই.

দাড়িবিহীন চেহারা নারীজাতির চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে। এ ধরনের সামঞ্জস্য অবলম্বন করা হারাম।

 

তিন.

এর ফলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা প্রদর্শন হয়। আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অমান্য করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

 

চার.

দাড়ি না রাখার মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন ও বিকৃতি ঘটানো হয়। আল্লাহ বলেন, আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই।

 

পাঁচ.

দাড়ি না রাখলে অবিশ্বাসীদের অনুসরণ করা হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা অবিশ্বাসীদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, এরপর আমি তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ বিধানের ওপর। সুতরাং তুমি এর অনুসরণ করো; অজ্ঞদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না।

 

ছয়.

দাড়ি না রাখলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়।

 

সাত.

সুরা-কেরাত শুদ্ধ থাকলেও আজান-ইকামতের যোগ্যতা ও সুযোগ থাকে না।

 

আট.

নবীজির অন্তরে আঘাত দেওয়া হয়।

 

নয়.

অন্যান্য পাপ একবার করলে একবারই গুনাহ লেখা হয়। কিন্তু দাড়ি না রাখলে সব সময় গুনাহ লেখা হতে থাকে। কেননা এটা গুনাহে জারিয়া বা চলমান গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

 

দশ.

কবরে মুনকার-নাকিরের প্রশ্ন-উত্তর কঠিন হয়ে যায়।

দাড়ি রাখার ধর্মীয় উপকারিতা

এক. দৃষ্টিশক্তি ঠিক থাকে। ফলে ভালোভাবে কোরআন তেলাওয়াত সম্ভব হয়।

 

দুই. দাড়ি থাকলে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা যায়। অবৈধ কাজে অংশগ্রহণে লজ্জাবোধ হয়।

 

তিন. মুমিন হিসেবে পরিচিত হওয়া যায়। নতুবা মুমিন-কাফির, পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায়।

 

চার. অপরিচিত স্থানে মারা গেলে মুসলমান হিসেবে সসম্মানে গোসল ও দাফন-কাফন নসিব হয়।

 

পাঁচ. হাশরের ময়দানে রাসুলের উম্মত দাবি করা সহজ হবে এবং তাঁর সুপারিশ লাভ সম্ভব হবে।

 

দাড়ি রাখার দৈহিক উপকারিতা

মাওলানা আশেকে ইলাহি মিরাঠি (রহ.) তাঁর ডারহি কি কদর ও হিকমত নামের বইয়ে লিখেছেন : ইউনানি চিকিৎসবিজ্ঞান অনেক আগেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। গলা ও বক্ষকে ঠাণ্ডা ও গরম থেকে রক্ষা করে । আধুনিক ডাক্তারদের মধ্যে একজন লিখেছেন : সব সময় দাড়িতে খুর চালালে চোখের শিরার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এতে চোখের জ্যোতি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে। অন্য এক ডাক্তার লিখেছেন : দাড়ি জীবাণুকে দাড়ির ভেতরে ঢুকতে প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি করে। তাকে গলা, বক্ষ পর্যন্ত অতিক্রম করতে বাধা দেয়। দাড়ি না রাখা যৌনশক্তি শূন্যের কোঠায় পৌঁছে দেয়।

এক ডাক্তার লিখেছেন, যদি সাত প্রজন্ম পর্যন্ত কোনো বংশের পুরুষদের মধ্যে দাড়ি মুণ্ডানোর অভ্যাস চালু থাকে, তাহলে অষ্টম প্রজন্মের সন্তান দাড়িবিহীন হবে। এর কারণ হলো, এর ফলে প্রত্যেক প্রজন্মে যৌনশক্তি হ্রাস পেতে পেতে অষ্টম জেনারেশনে একেবারে শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যাবে ।

 

বিবিসির এক অনুষ্ঠানট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টরসম্প্রতি এই প্রশ্নে একটা ছোট্ট পরীক্ষা চালিয়েছে। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লিন শেভড পুরুষের চেয়ে দাড়িওয়ালাদের মুখে রোগ-জীবাণু বেশি, এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতাল সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা চালায়। জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, দাড়িওয়ালাদের চেয়ে বরং দাড়ি কামানো পুরুষের মুখেই বেশি রোগ-জীবাণু পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, মেথিসিলিন-রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফ অরিয়াস (এমআরএসএ) বলে যে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, সেটি দাড়িওয়ালাদের চেয়ে দাড়ি কামানোদের মুখে তিন গুণ বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে। এর কারণ কী? গবেষকরা বলছেন, দাড়ি কামাতে গিয়ে মুখের চামড়ায় যে হালকা ঘষা লাগে, তা নাকি ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। অন্য দিকে দাড়ি সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। বিবিসির ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পুরুষের দাড়ি থেকে ব্যাকটেরিয়ার নমুনা সংগ্রহ করে একই ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More